দুদকের চেয়ারম্যান–কমিশনার পদে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
দুদকের চেয়ারম্যান–কমিশনার পদে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান
দুর্নীতি দমন কমিশন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে আগ্রহী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানোর লক্ষ্যে গঠিত বাছাই কমিটি এই আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ধারা ৭ অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটি দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত চেয়েছে।

আবেদনকারীদের আইনের ধারা ৮(১) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ধারা ৮(২)-এ উল্লিখিত ব্যক্তিরা কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

জীবনবৃত্তান্তে আবেদনকারীর নাম, বাবা ও মায়ের নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সংযুক্ত করে স্বাক্ষরসহ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে।

জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সমর্থনে প্রয়োজনীয় সনদপত্রের অনুলিপি জমা দিতে হবে। খামের ওপর ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান/কমিশনার পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত’ উল্লেখ করতে হবে।

আবেদন সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় পত্র গ্রহণ কেন্দ্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৫ নম্বর ফটক অথবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতি শাখা (কক্ষ নম্বর–৯৩৫), ভবন নম্বর–১ (নতুন), বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকায় জমা দেওয়া যাবে।

জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৩ জুলাই ২০২৬, সোমবার, বিকেল ৪টা।

তবে যাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ এরই মধ্যে আবেদন বা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান পদে কখনো কোনো নারী নিয়োগ পাননি। তবে ২০২৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক সচিব মোছা. আছিয়া খাতুন। পরের বছর শিরীন পারভীন পরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে মহাপরিচালক হন। দুদকের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী মহাপরিচালক।

নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। ওই সংশোধনীতে কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন কমিশনারসহ সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়।

এ ছাড়া মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত তদন্ত ও কার্যক্রমে দুদকের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাবও রাখা হয়।