কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৩ নারী ও ৪ শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঘটনা বেড়েছে। রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত পৃথক চারটি ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, চারজন শিশু এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।
সবশেষ সোমবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বাড়ির ওপর পড়ে। এতে ৪৫ বছর বয়সী আলী আকবর নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন তাঁর পরিবারের আরও দুজন সদস্য। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতিগুলো থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
এর আগে গভীর রাতে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে জামতলী ক্যাম্পে। সেখানে পাহাড়ধসে একটি ঘর মাটিচাপা পড়লে কামাল হোসাইন, তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং চার বছরের ছেলে আনাস মারা যান। পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন।
কুতুপালং ক্যাম্পে পৃথক আরেকটি ধসে সাত বছর বয়সী একরামের মৃত্যু হয়। পরে বালুখালী ক্যাম্পে আরও একটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী উম্মে হাবিবা, তাঁর কিশোরী বোন তানজিনা আক্তার এবং দুই শিশু রিহান ও হারুনুর রশিদ।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল রাতভর অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোর বড় একটি অংশ পাহাড়ি ঢালে গড়ে উঠেছে। সেখানে হাজারো পরিবার ভূমিধসের ঝুঁকিতে বাস করছে। বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।






