খেলা দেখতে যাওয়া এক নারীকে শহীদুল্লাহ্ হলের মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হলের মাঠে ফুটবল বিশ্বকাপের ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ দেখতে যাওয়া এক সাবেক নারী শিক্ষার্থীকে হল সংসদের কয়েকজন সদস্য ঘিরে ধরে অপমানজনক মন্তব্য করে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটিকে ‘মব’, ‘মোরাল পুলিশিং’ এবং নারী শিক্ষার্থীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া। তার দাবি, নিয়ম মেনেই তাঁদের চলে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন এবং তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন।
শনিবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ্ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ এ দাবি জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের দুইজন বিবাহিত সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শহীদুল্লাহ্ হলের মাঠে ফ্রান্স-নরওয়ে ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান। হলের গেটে নিয়ম অনুযায়ী নাম নিবন্ধন করে প্রবেশের পর মাঠে বসলে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন সেখানে যান।
সংগঠনটির অভিযোগ, ওই সময় নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে ‘এত রাতে মেয়ে নিয়ে ছেলেদের হলে বসে আছেন’ এবং ‘মেয়েদের জন্য খেলা দেখার আয়োজন শুধু গুটিকয়েক ম্যাচের জন্য’ বলে মন্তব্য করা হয়। পরে সংঘবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর দাবি, এ ঘটনা শুধু একজন নারী শিক্ষার্থীর প্রতি অপমানজনক আচরণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমবর্ধমান ‘মব কালচার’ ও ‘মোরাল পুলিশিংয়ের’ উদ্বেগজনক উদাহরণ।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাজু মিয়া রোকেয়া কালেকটিভকে বলেন, প্রথমে হলের নিরাপত্তারক্ষী এবং পরে তিনি ও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের কাছে গিয়ে ছেলেদের আবাসিক হলের সামনে গভীর রাতে অবস্থান না করার অনুরোধ করেন। সাজুর ভাষ্য, নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার কোনো কথোপকথন হয়নি।
সাজু মিয়া বলেন, “যদি ওই আপু বলতে পারেন, তার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়েছে, তাহলে আমি তার কাছে ক্ষমা চাইব।”
তিনি আরও দাবি করেন, পরে ওই শিক্ষার্থীরা হলের গেটের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হন এবং তাঁকে ডাকার চেষ্টা করেন। এরপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে নারী হেনস্তার অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সাজু মিয়ার এই অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।






