সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে বীমা খাতকে নতুন পথ খুঁজতে হবে: নাদিয়া নিভিন

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে বীমা খাতকে নতুন পথ খুঁজতে হবে: নাদিয়া নিভিন
ঢাকায় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় উদ্বোধনী কর্মশালায় কথা বলেন মীর নাদিয়া নিভিন

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেছেন, বীমা খাতকে এমন নতুন সেবা বিতরণব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে, যা সেবাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং তাদের প্রকৃত চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়।

ঢাকায় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় উদ্বোধনী কর্মশালায় এসব কথা বলেন মীর নাদিয়া নীভিন। তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী চেয়ারম্যান।

নাদিয়া নিভিন বলেন, উপযুক্ত মাইক্রোইনস্যুরেন্স নীতিমালা ও কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা, স্বল্প আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করা সম্ভব।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প আয়ের, সেবাবঞ্চিত ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী, উপযোগী ও নির্ভরযোগ্য বীমা সেবা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় মাইক্রোইনস্যুরেন্স নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের কাজ শুরু করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর নাদিয়া নীভিন বলেন, বীমা খাতকে উদ্ভাবনী সেবা বিতরণব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে, যাতে এখনো বীমার বাইরে থাকা মানুষের কাছেও সেবা পৌঁছানো যায়।

তিনি বলেন, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মতো অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দেশে বীমা সেবার আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও শক্তিশালী হবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সর্দার আসাদুজ্জামান বলেন, মাইক্রোইন্স্যুরেন্স শুধু একটি বীমা পণ্য নয়, এটি মানুষের সহনশীলতা ও আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

তিনি বলেন, ইউএনডিপির লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট বাজার মডেল চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং এমন একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করা, যা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করবে, বাজারে আস্থা বাড়াবে এবং মানুষের জন্য উপযোগী বীমা সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করবে।

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বীমা ও ক্ষুদ্রঋণ খাতের মধ্যে নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে সমন্বয়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রেখেই সেটিকে আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বীমা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে একদিকে বীমা সেবার পরিধি বাড়ে, অন্যদিকে গ্রাহকদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে।

কর্মশালায় আইডিআরএ, এমআরএ, বিভিন্ন বীমা কোম্পানি, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইনসুরটেক কোম্পানি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মাইক্রোইনস্যুরেন্স সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাজারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে মতামত দেন। পাশাপাশি ভোক্তা সুরক্ষা, বাজারে আস্থা তৈরি এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালা থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে একটি রেগুলেটরি গ্যাপ অ্যানালাইসিস, খসড়া মাইক্রোইনস্যুরেন্স নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বাস্তবায়নের কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে।