উপকূলে জলবায়ু লড়াইয়ে সাফল্য: ৭ বছরে ৭ লাখ মানুষের জীবনে পরিবর্তন

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
উপকূলে জলবায়ু লড়াইয়ে সাফল্য: ৭ বছরে ৭ লাখ মানুষের জীবনে পরিবর্তন
ছবি: প্রতীকী ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে লবণাক্ততা, নিরাপদ পানির সংকট এবং জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সাত বছরব্যাপী একটি অভিযোজন প্রকল্পে ৭ লাখের বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

নিরাপদ পানীয় জল, নারীদের আয়মূলক কাজে যুক্ত হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ার ফলে খুলনা ও সাতক্ষীরার বহু পরিবার এখন তুলনামূলকভাবে বেশি সহনশীল।

সোমবার ঢাকায় আয়োজিত ‘জেন্ডার-রেসপন্সিভ কোস্টাল অ্যাডাপটেশন (জিসিএ)’ প্রকল্পের সমাপনী ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় এ দাবি জানানো হয়।

এতে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। অংশীদার ছিল মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা ও সাতক্ষীরায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে মোট ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে জলবায়ু সহনশীল জীবিকায় যুক্ত হতে সহায়তা পেয়েছে ২৪ হাজার ৭২৪টি পরিবার। একই সঙ্গে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯৭ জন মানুষের জন্য সারা বছর নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি, কাঁকড়া চাষ, হাইড্রোপনিক প্রযুক্তি ও বাড়িভিত্তিক বাগানের মতো উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এতে তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় ১৫ হাজার ৭০০টির বেশি জলবায়ু সহনশীল পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এতে নিরাপদ পানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি পানি সংগ্রহে নারীদের ও কিশোরীদের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সমাজের সব অংশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে বলেন, প্রকল্পের সাফল্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে অব্যাহত থাকবে।

প্রকল্পের জাতীয় পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল হাই আল মাহমুদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্বভিত্তিক এবং জেন্ডার সংবেদনশীল জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।