হার্ভার্ডে শেখা অর্থনীতির ধারণা টেনে বিশ্লেষণ, বাজেট অধিবেশনে এবার নজর কেড়েছেন জহরত আদীব চৌধুরী

জাতীয় সংসদে প্রথম বক্তব্যেই বাজেট নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনার মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদীব চৌধুরী।
গত ২২ জুন সংসদে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর ভাষ্য, এটি নতুন কোনো ধারণা নয়; বরং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার আধুনিক রূপ।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করেন তাঁর বাবা, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এবাদুর রহমান চৌধুরীকে। বলেন, তাঁর বাবা চারবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছিলেন। নিজেও সেই সুযোগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন জহরত আদীব। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে নীতিগত ও কারিগরি বিশ্লেষণের পরিবর্তে অনেকেই আবেগনির্ভর বক্তব্য দিচ্ছেন।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে শেখা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উদীয়মান অর্থনীতির বড় বাধাগুলোর একটি হলো ‘ইনস্টিটিউশনাল ভয়েড’ বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছরে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে এবং বর্তমান বাজেটে সেগুলোকে পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বর্তমান শক্তির ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের অর্থনীতির জন্যও প্রস্তুত হতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্প ও দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, সৃজনশীল অর্থনীতি, ব্লু ইকোনমি ও ক্রীড়া অর্থনীতির মতো নতুন খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
বাজেটে সামাজিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে জহরত আদীব বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়লে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সহজ হবে এবং মধ্যম আয়ের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যবসা পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তিনি। আগামী পাঁচ বছর কর কাঠামো অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা, কর ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়তা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) জোরদার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ এবং ফ্রিল্যান্সারদের কর অব্যাহতির মতো উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কর রেয়াত ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকায় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ অংশে নিজের এলাকা মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ীর উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন জহরত আদীব। হাকালুকি হাওর, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, পাথারিয়া পাহাড় ও চা-বাগানকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ চান। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা।
তাঁর বক্তব্য শেষে সেদিন স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি (বলেন,(জহরত আদীব চৌধুরী) সত্যিই মরহুম এবাদুর রহমান চৌধুরী সাহেবের কন্যা। এ জন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।






