রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে চারদিনে ৭৪ ধস, ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি জায়গা প্রয়োজন: ইউএনএইচসিআর

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে চারদিনে ৭৪ ধস, ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি জায়গা প্রয়োজন: ইউএনএইচসিআর
উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে আহত ও নিহতদের উদ্ধার প্রচেষ্টা | ছবি এম এইচ মুস্তাফা

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশারের কার্যালয়, ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ছোটবড় কমপক্ষে ৭৪টি ধসের ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। শুধু পাহাড়ধসে নয়, এ সময় পানিতে ডুবেও শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় - আরআরআরসি।

গতকালই খাদিজাতুল কুবরা নামে একটি মাদ্রাসায় পাহাড়ধসে সাত শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন এখন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

৮ জুলাই ইউএনএইচসিআর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে তারা জানায় শুধু চারদিনের ভারী বর্ষণে নতুন করে ৩৬৪৮ জন নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর শরণার্থী শিবিরে জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সম্ভব হলে আরও জায়গার ব্যবস্থা করার কথা বলেছে।

এই মুহূর্তে শরণার্থী শিবিরের জনসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এই শরণার্থীদের সিংহভাগ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হলেও, পরের কয়েকদফায় আরও প্রায় দেড়লাখ শরণার্থী বাংলাদেশে আসেন। রাখাইনে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য হন।

ইউএনএইচসিআর তাদের প্রতিবেদনে বলেছে বাড়তি জায়গা পেলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শরণার্থীদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে পানি নিষ্কাশন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে অন্যান্য ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব হবে।

ইউএনএইচসিআর আরও বলেছে, এই মুহূর্তে বিপর্যয় মোকাবিলায় তারা তহবিল সংকটে রয়েছে। দ্যা এক্সেস অ্যান্ড সেফটি অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট খাতে তহবিল সংকট রয়েছে ৬০ শতাংশ। প্রয়োজনীয় তহবিল পেলে পাহাড়ের যে ঢালগুলো রয়েছে সেগুলোর ব্যবস্থাপনা, জীবন বাঁচাতে কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।