সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা
সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ডের ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। বিস্ফোরণের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতা, কর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ উপস্থিতিদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানায় দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

এজাহার অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার কয়েক মিনিট আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত আলো জ্বালানো হলেও পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য চলাকালে রাত প্রায় ৯টা ৪২ মিনিটে মঞ্চের সামনে দর্শক সারিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিকে সাদা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় শাহিন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদৎ হোসেন (৪০), ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপার্সন মজনু (৪৫), এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম (২৫)সহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. সালামত উল্লাহ রনি, যিনি এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব, অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সমাবেশ পণ্ড করা এবং দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার পেছনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার পর সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানায় গিয়ে মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

এদিকে সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিস্ফোরণের পর তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাহিদের ভাষ্য, “স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।”

তবে নাহিদ ইসলামের এ অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।