"দেশে নারী গাড়িচালকের চাহিদা আছে যোগান নেই'

দেশে নারী চালকের চাহিদা বাড়লেও প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী নারী চালকের সংখ্যা এখনও খুবই কম। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব নারী চালকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘চালকের আসনে নারী: সাফল্য উদযাপন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন খাত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে।
পেশাদার নারী চালকদের প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে সফল প্রশিক্ষণ শেষে পেশাদার চালক হিসেবে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত ১০ নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়। তারা তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গাড়িচালনার পাশাপাশি ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সামাজিক বাধা ও প্রচলিত ধারণার কারণে দীর্ঘদিন পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, পেশাদার নারী চালক তৈরির উদ্যোগ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে সমাজ এখনও নারী চালকদের পুরোপুরি গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। একই সঙ্গে নারী চালকদের জন্য জনপরিসরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পরিকল্পিত নারী-বান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থায় এসব প্রশিক্ষিত নারী চালক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, নারী চালকদের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সহায়ক করতে কাজ করছে বিআরটিএ। নিরাপত্তা ও দক্ষতার মান বজায় রেখে লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে আরও নারীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, নারী চালকদের জন্য দেশে ও বিদেশে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও দক্ষ নারী চালকের চাহিদা বাড়ছে। তিনি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কেয়ারগিভিং ও মৌলিক নার্সিং দক্ষতা যুক্ত করার পরামর্শ দেন, যাতে নারীরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারের বহুমুখী চাহিদার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণের পর আরও তিন মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে অভিজ্ঞ চালকদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন। ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল এখন পর্যন্ত ১৫৯ জন নারীকে পেশাদার চালক হিসেবে প্রস্তুত করেছে।
২০০১ সাল থেকে পরিচালিত ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জনসচেতনতা তৈরি এবং গণপরিবহনে নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং এবং সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে সাধারণ গাড়িচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।






