‘নারীকে ধর্ষণের হুমকি ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’

সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি, নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অপমানজনক প্রচারণা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা কেবল নারীর মর্যাদা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং সংবিধান, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের চেতনারও সুস্পষ্ট অবমাননা।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানায়, দেশে ভিন্নমত, নারীর স্বাধীন কণ্ঠ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি, নারীদের চরিত্রহনন, জনসম্মুখে হয়রানি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, ভিন্নমত প্রকাশ করলেই নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নারী সাংবাদিকদের ‘দালাল’ ও ‘দেশবিরোধী’সহ বিভিন্ন অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণেও নারীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল, যৌন হয়রানিমূলক ও চরিত্রহননমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
নারী মানবাধিকারকর্মীরাও একই ধরনের বিদ্বেষ, হুমকি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন। এমনকি জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইনসভাতেও নারী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভয়ভীতি, হামলা ও সহিংসতার ঘটনাগুলোও গভীর উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে গলা কেটে হত্যা, জমি বিক্রির টাকা লুট, কারাগারে আটক অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু, হিন্দুদের দেশ ছাড়ার হুমকি এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রস্তাবিত রামমন্দির নির্মাণ ও রামের ছবি অবমাননাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়। এসব ঘটনা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার উসকানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নীরবতা বা বিলম্বিত পদক্ষেপ অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাই নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারীর মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষর করেন।






