শিশু আয়াত হত্যা মামলায় প্রতিবেশি আবীর আলীর ফাঁসি

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার ঘটনায় প্রতিবেশী আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস বুধবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা এবং পরে মরদেহ বিকৃত করার মতো ঘটনা মানবিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। এ ধরনের অপরাধ সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং এর প্রতি কোনো ধরনের নমনীয়তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তবে রায়ের পর আসামি পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে হত্যা করেছেন।
তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন আবীর। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে তিনি শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে গোপনের চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর আবীরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, আয়াতের জুতা এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার ডিএনএর সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিলও পাওয়া যায়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। এরপর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৩ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেও গোপন রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত এক কিশোরের বিচার শিশু আদালতে পৃথকভাবে চলছে।






