প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হবে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কাজ চলছে।
"আমরা চেষ্টা করছি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যে সব সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, সেগুলো একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস-এর আওতায় নিয়ে আসতে," ফারজানা শারমিন বলেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যা বিষয়ক সেল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষায় প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করা হবে।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফিজিক্যাল ও মেন্টাল হেলথ, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ একসঙ্গে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের যে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সক্ষমতাকে আরো বিকশিত করা হবে। পাশাপাশি তারা যে পণ্য উৎপাদন করবেন, সেগুলোর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরো বলেন, "আমরা যেহেতু ইনক্লুসিভ এডুকেশন সিস্টেমের কথা বলছি, তাই একই কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি মাস্টার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। "
এই সেন্টারে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে, যেন সারাবাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন খাতের শিক্ষণপ্রত্যাশীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা লিগ্যাল এইড কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। কারণ বিভিন্ন বিরোধ বা আইনি জটিলতায় তারা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হন।
"আমরা সেই অধিকারও নিশ্চিত করতে চাই। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে আরো সহজ করা," তিনি যোগ করেন।
ফারজানা শারমিন বলেন, প্রতিবন্ধী রয়েছে এমন পরিবারের সদস্যরা যে মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, সেখান থেকেও তাদের বের করে আনতে চায় সরকার।
ফারজানা শারমীন আরো
বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি পাইলট প্রকল্পের আওতায় এমন ব্যবস্থাও রাখতে চাই, যেন কোনো অভিভাবক যদি তার সন্তানকে স্কুলে নিয়ে এসে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, সেই সময়ে তিনি এমন কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন, যার মাধ্যমে কিছু আয় করতে পারবেন। কারণ ওই সময়ে শিশুরা চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট বা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেটি তারা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। কারণ আজ যারা পিছিয়ে আছে, তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।






