মাত্র ৫ কর্মদিবসে বিচার শেষ, শিশু ধ*র্ষণ ও হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিনিধি
মাত্র ৫ কর্মদিবসে বিচার শেষ, শিশু ধ*র্ষণ ও হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে চার বছরের এক শিশুকে ধ*র্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃ*ত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র ৫ কর্মদিবসে বিচার কাজ শেষ করে সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের সময় আদালত বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার চার মাসের মধ্যে মাত্র ৫ কর্মদিবসে দ্রুত এ মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ১৬ জুন মামলার শুনানি শুরু হয়, ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ভুক্তভোগী শিশুকে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ ও নাক চেপে ধরেন তিনি, এতে শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন মরদেহ উদ্ধারের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা বলেন, আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকুক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং উচ্চ আদালতেও দণ্ড বহাল থাকবে বলে তারা আশা করেন।