নারীদের এগিয়ে নিতে ‘ইতিবাচক বৈষম্য’ প্রয়োজন: ফরিদা আখতার

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
নারীদের এগিয়ে নিতে ‘ইতিবাচক বৈষম্য’ প্রয়োজন: ফরিদা আখতার
সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জাতীয় নারী শক্তির আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশে’ বক্তব্য দেন ফরিদা আখতার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দেওয়া হলেও নারীদের এগিয়ে নিতে ইতিবাচক বৈষম্য বা বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, পুরুষদের মতো একই সুযোগ দিলেই নারীরা সমান অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন না। কারণ সামাজিক ও পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো এখনো তাঁদের পিছিয়ে রাখছে। তাই নারীদের এগিয়ে আনতে রাষ্ট্রকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জাতীয় নারী শক্তির আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশে’ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ফরিদা আখতার।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে আমরা ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দিয়েছি। কিন্তু নারীদের বিষয়ে একটি কথা বলতে চাই। আমি সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি মনে করি, নারীদের এগিয়ে আনতে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন প্রয়োজন। যদি আমরা বলি, নারীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ লাগবে না, ছেলেরা যে সুযোগ পায়, নারীরাও শুধু সেই সুযোগই পাবে, তাহলে নারীরা আরও পিছিয়ে থাকবে। কারণ সামাজিক ও পুরুষতান্ত্রিক কারণে তাঁদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাই তাঁদের এগিয়ে নিতে আমাদের হাত বাড়াতে হবে।”

ফরিদা আখতার তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটাতে তরুণদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তবে গণঅভ্যুত্থানের পরও রাষ্ট্রের অনেক ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জুলাই শুধু একটি মাস নয়। জুলাই আমাদের চেতনা। বছরের ১২ মাসই জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে হবে।”

গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্মরণ করে ফরিদা আখতার বলেন, হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে হাত-পা হারিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাবের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে নারী আন্দোলনকারী ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় নারী শক্তি এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও নারী অধিকারকর্মীরা অংশ নেন।