গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার চেয়ে স্মারকলিপি জুলাইয়ে সন্তান হারানো রোকেয়া বেগম এমপির

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শিশু জাবির ইবরাহীমের মা এবং জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
সোমবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে রোকেয়া বেগম বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না; ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান নিশ্চিত হবে।”
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হন। এতে বলা হয়, এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা, যার ক্ষত এখনো বহন করছে অসংখ্য পরিবার।
রোকেয়া বেগম দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছেন, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নও প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বিচারহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব ও সংস্কারে দীর্ঘসূত্রিতা জনগণের প্রত্যাশাকে ব্যাহত করছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান, গণহত্যায় জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও ইতিহাস সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে রোকেয়া বেগম বলেন, ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া, বিচারহীনতার অবসান এবং জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।






