১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বোঝা বহন করছে বাংলাদেশ, দ্রুত প্রত্যাবাসনে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল ঢাকা

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বোঝা বহন করছে বাংলাদেশ, দ্রুত প্রত্যাবাসনে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল ঢাকা
সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইলমাজের সঙ্গে বৈঠকে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার দ্রুত প্রত্যাবাসনে তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

সরকার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফেরানো জরুরি।

সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইলমাজের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।

ফাতমা মেরিচ ইলমাজ জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের দেওয়া মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।