যৌতুক ছাড়াই একই মঞ্চে ৭ জুটির বিয়ে, লালমনিরহাটে ব্যতিক্রমী আয়োজন

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিনিধি
যৌতুক ছাড়াই একই মঞ্চে ৭ জুটির বিয়ে, লালমনিরহাটে ব্যতিক্রমী আয়োজন
শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ গণবিয়ের আয়োজন করে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক উদ্যোগে ছয়টি মুসলিম ও একটি হিন্দু পরিবারের সাত জোড়া বর-কনের বিয়ে সম্পন্ন হয় | ছবি: সংগৃহীত

যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক বার্তা দিতে লালমনিরহাটে একই মঞ্চে সাত জোড়া তরুণ-তরুণীর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, কোনো ধরনের যৌতুক বা দেনা-পাওনা ছাড়াই এসব বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ গণবিয়ের আয়োজন করে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক উদ্যোগ। এতে ছয়টি মুসলিম ও একটি হিন্দু পরিবারের সাত জোড়া বর-কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

শনিবার সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাঁর উপস্থিতিতে নবদম্পতিদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

আয়োজকরা জানান, সামাজিক অপরাধ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং যৌতুক প্রথা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ঈদুল আজহার সময় যৌতুকবিহীন গণবিয়ের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এটি তার বাস্তবায়ন।

বিয়েতে অংশ নেওয়া নবদম্পতিরা বলেন, যৌতুক ছাড়া নতুন জীবন শুরু করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।

তাঁরা জানান, বিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত, যৌতুকের ভিত্তিতে নয়। বর-কনের অভিভাবকেরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এমন আয়োজন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে বিভিন্ন এলাকায় এখনো যৌতুকের দাবি, আর্থিক চাপ এবং এ–সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সে প্রেক্ষাপটে যৌতুকবিহীন গণবিয়ের এ আয়োজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।