মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে

মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার, স্মার্টফোনের মালিকানা এবং মোবাইলের মালিকানায় নারী-পুরুষ বৈষম্যের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের ১৪টি দেশের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে। যদিও ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিবাচক প্রভাব দেশের নারীদের ওপর বেশি।
মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক সংগঠন গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএমএ) গত ১০ জুন প্রকাশিত ‘দ্য মোবাইল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জিএসএমএ ২০২৫ সালে ১৪টি দেশে প্রতিবেদনের জন্য জরিপ চালায়। দেশগুলো হচ্ছে মিসর, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, উগান্ডা, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, গুয়াতেমালা এবং মেক্সিকো।
জরিপে ভারত বাদে বাকি ১৩টি দেশে ১৮ বছর ও এর বেশি বয়সের এক হাজার নারী ও পুরুষের তথ্য নেওয়া হয়েছে। ভারতে দুই হাজার জনের ওপর জরিপ চালানো হয়।
জিএসএমএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৩ দশমিক ২ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। এসব দেশগুলোতে মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান মাধ্যম এখনও মোবাইল ফোন।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বর্তমানে ৮৪ শতাংশ নারীর নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে এবং ৬৪ শতাংশ নারীর একটি স্মার্টফোন আছে। যাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এসব দেশে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মোবাইল ফোন, মোবাইল মানি, মোবাইল ইন্টারনেট এবং অন্যান্য মোবাইল সেবা ব্যবহারের হার কম।
বিশেষ করে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত নারী- স্বল্প শিক্ষিত ও কম আয়ের নারী এবং যারা গ্রামে বসবাস করেন বা প্রতিবন্ধী, এদের মধ্যে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত সেবা ব্যবহারের হার আরও কম।
জিএসএমএ বলছে, বৈশ্বিকভাবে ২০২৫ সালে এই লিঙ্গ বৈষম্য সামান্য কমে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থা
দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট গ্রহণের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ২৫ শতাংশ এবং স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে তা ৩৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা রয়েছে জিএসএমের তালিকায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। এমনকি তাদের স্মার্টফোনের মালিকানায় পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে রয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লিঙ্গ বৈষম্য বাংলাদেশে, ৩৮ শতাংশ। এরপর আছে ইথিওপিয়ায় ৩৬ শতাংশ, উগান্ডায় ৩৩ শতাংশ, নাইজেরিয়ায় ২৬ শতাংশ এবং ভারতে ২৫ শতাংশ।
মোবাইল মালিকানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লিঙ্গ বৈষম্য থাকা দেশগুলো হলো পাকিস্তান ২৭ শতাংশ, ইথিওপিয়া ২২ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে ১২ শতাংশ নারী এবং ৪ শতাংশ পুরুষের কোনো মোবাইল ফোন নেই।
অন্যদিকে স্মার্টফোন মালিকানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লিঙ্গ বৈষম্য বাংলাদেশে, যেখানে পুরুষদের তুলনায় নারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার ৪০ শতাংশ কম। বিগত দু বছর ধরে এই বৈষম্য একই রকম আছে।
অর্থাৎ বৈষম্যের প্রায় সবগুলো ক্যাটাগরিতেই বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।
স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ব্যবহারে নারীরা বৈষম্যের শিকার হলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিকা ও আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব বেশি। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের ওপর প্রভাব ২৭ শতাংশ এবং নারীদের ওপর ২৮ শতাংশ প্রভাব।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান বাধাগুলো হচ্ছে, শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতার অভাব এবং ক্রয়ক্ষমতা।
বাংলাদেশে নারী ও পুরুষ উভয়েই ভিডিও কলের জন্য সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কৃষি খাতের তথ্যের জন্য সবচেয়ে কম ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। এ ছাড়া সরকারি সেবার জন্য ২৩ শতাংশ পুরুষ এবং ১৭ শতাংশ নারী ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ পুরুষ ও ১৮ শতাংশ নারী আয় করে।
আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে ২৮ শতাংশ নারীর এবং ২৭ শতাংশ পুরুষের জীবনে উন্নতি হয়েছে।






