রোহিঙ্গা শিবিরে সেভ দ্য চিলড্রেনের নতুন হাসপাতালে প্রথম সিজারিয়ান অপারেশনে শিশুর জন্ম

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত নতুন মাতৃ ও শিশু হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া হাসপাতালটি রোহিঙ্গা শিবিরে মাতৃ ও নবজাতকের জন্য বিশেষায়িত প্রথম হাসপাতাল। বৈশ্বিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শিবিরের কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাকেন্দ্র ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালটিতে প্রথম সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর নিরাপদ জন্মকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মাসে চার সন্তানের জননী শিরিন (ছদ্মনাম) দীর্ঘ সময় প্রসববেদনায় ভুগছিলেন। তাঁর গর্ভের পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনাগত শিশুর হৃদ্স্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তাঁর রক্তচাপও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকেরা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের কক্সবাজারের পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্মই আনন্দের। তবে এই জন্মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জটিল প্রসবের মধ্যেও চিকিৎসকেরা মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, এই হাসপাতাল চালুর উদ্দেশ্য ছিল বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এমন মায়েদের কাছে সেই সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের নিরাপদ পরিবেশে সন্তান জন্মদানের সুযোগ নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরও সফল প্রসবের মাধ্যমে কক্সবাজারে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৫৯ শয্যার হাসপাতালটিতে জরুরি নবজাতক পরিচর্যা, প্রসবপূর্ব সেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—উভয়ের জন্যই উন্মুক্ত।
শিরিন বলেন, চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁর খুব যত্ন নিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা চিকিৎসকেরা তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও বুঝিয়ে বলেছেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি শিশু। অপুষ্টি, প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ, বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর প্রতিবন্ধকতার কারণে শিবিরে অনেক নারী উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার মুখোমুখি হন।
সেভ দ্য চিলড্রেন ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজারে কাজ করছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর সংস্থাটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও শিশুসুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে।
*নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটির মায়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।






