টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসে মৃত্যু, বিদ্যুৎ নেই অনেক জায়গায়

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ১০ মাস ও ১৩ বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা তলিয়ে গেছে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যোগাযোগ একরকম বন্ধ। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই অনেক জায়গায়।
সকালের দিকে জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়িতে পাহাড়ধসের ঘটনায় ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম ওরফে তানভীরের মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুটির মাও মাটি চাপা পড়েন। দুজনকে উদ্ধার করা গেলেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।
অন্যদিকে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় পাহাড়ধসে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামে অপর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী অঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, তাঁদের এলাকায় ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
এছাড়াও ওই এলাকায় এলাকায় বিষধর সাপে র উপদ্রব দেখা দিয়েছে।
অতি বর্ষণের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে । একই সঙ্গে পাহাড়ধস, দেয়াল ধস ও জলাবদ্ধতা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নগরে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মাত্র দুইবার এত বৃষ্টির নজির আছে।
বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩৭ দশমিক ৫ মি লি মিটার বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে , বঙ্গোপসাগর থেকে আসা অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হচ্ছে । শুক্রবার পর্যন্ত
বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে । সমুদ্র বন্দরগুলােকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে ।
বুধবার সকালেও কাতালগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পশ্চিম বাকলিয়া, কাপাসগোলা, অক্সিজেন-মদুনাঘাট সড়কসহ নগরে র বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে ছিল। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং
সাধারণ যাত্রীদে র চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফরমান উল্লাহ শাকিল বলেন, “গতকাল পানি ছিল অনেক। সকালে কিছুটা কম ছিল। কিন্তু সকাল ১১টার পর থেকে পানি ধীরে ধীরে আবার বাড়তে থাকে । পানির কারণে বাসা থেকে বের হতে পারছি না, এমনকি টিউশনেও যেতে পারিনি ।”
বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা ফারজানা চুমকি বলেন, “এত বাজে অবস্থা যে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। ঘর থেকে বের হলেই চারদিকে শুধুপানি আর পানি ।”
ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে । রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর পানির উচ্চতা নিরাপদ সীমার অনেক বেশি হওয়ায় ট্রেন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে থাকা জাহাজের পণ্য খালাসও ব্যাহত হচ্ছে । প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে গেছে।
নগরের বাইরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে । প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার বে শি সময় ধরে বি দ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষোবোর্ডের বধুবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও দিনের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল করেছে । একই সঙ্গে নগরের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা
করেছে ।
এদিকে , অব্যাহত বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ,পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে ।






