শুধু মেগাওয়াট নয়, কত মানুষ উপকৃত হবে সেটিও হোক জ্বালানি নীতির লক্ষ্য

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
শুধু মেগাওয়াট নয়, কত মানুষ উপকৃত হবে সেটিও হোক জ্বালানি নীতির লক্ষ্য
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে জ্বালানি-খাতের নীতি ও নীতিগত উপকরণসমূহের পর্যালোচনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে শুধু কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, সেটিই নয়; কত মানুষ এর সুফল পাবেন, সেটিও লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করেন, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে জ্বালানি খাতের টেকসই রূপান্তর সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে জ্বালানি-খাতের নীতি ও নীতিগত উপকরণসমূহের পর্যালোচনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলা হয়।

সংলাপে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) এবং রুফটপ সোলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকার খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, খসড়া দলিল দুটিতে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, প্রয়োজন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে না। কত মানুষ এ খাতের সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিও সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়ন সহজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামসের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, খসড়া কৌশলপত্র ও নির্দেশিকায় নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। নীতিমালা প্রণয়নের সময় নাগরিকদের মতামত গ্রহণের সুযোগ রাখা এবং বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহিশন লিড ওয়াসিউর রহমান তন্ময়। তিনি বলেন, দুটি খসড়া নীতিগত দলিল তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও সহজ ঋণের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাঁর মতে, সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিগুলো আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) কোম্পানি সচিব এ এস এম মুনির বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে শুধু সোলার হোম সিস্টেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। উৎপাদন, বিতরণ, ব্যবহারকারী ও সামাজিক প্রভাবসহ পুরো ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েই নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, নীতি প্রণয়নের আগে শুধু সরকারি কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞদের নয়, স্থানীয় মানুষ, কৃষক, নারী সংগঠন, উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামতও নেওয়া প্রয়োজন। বাস্তবে যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির সেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ছাড়া কার্যকর নীতি তৈরি সম্ভব নয়।

এ সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এনার্জি গভর্ন্যান্স সমন্বয়ক মো. নেওয়াজুল মাওলা সামাজিক নিরীক্ষা, জবাবদিহি ও বাস্তবায়ন রোডম্যাপ যুক্ত করার ওপর জোর দেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া জাহান রথী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক ব্যবহারিক শিক্ষা চালুর প্রস্তাব দেন। আর অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের মার্জিয়া ইসলাম ব্যবহৃত ব্যাটারির নিরাপদ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জানায়, আলোচনায় পাওয়া সুপারিশগুলো একত্র করে নীতি সুপারিশ ও একটি পলিসি ব্রিফ আকারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।