নিরাপদ অভিবাসন ও প্রত্যাবাসনে যৌথভাবে কাজ করবে আইসিএমপিডি ও ব্র্যাক

নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত অভিবাসন কমিয়ে বৈধভাবে ইউরোপে কর্মী পাঠানো এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই প্রত্যাবাসন ও পুনরেকত্রীকরণসহ অভিবাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (আইসিএমপিডি) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।
সোমবার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইসিএমপিডির উপ-মহাপরিচালক সেদেফ ডেয়ারিং এবং ব্র্যাকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ পরিচালক অরিঞ্জয় ধর সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় আইসিএমপিডির চিফ অব স্টাফ রোমেড পারফ্ল্যার, প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমাদি, বাংলাদেশের কর্মকর্তা ফজলে করিম, ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান, সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান এবং প্রবাসবন্ধু লিমিটেড ও ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান গোলাম ফারুকসহ দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইসিএমপিডির উপ-মহাপরিচালক সেদেফ ডেয়ারিং বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনিরাপদ অভিবাসন কমানো এবং ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের সংযোগ তৈরিতে এই সমঝোতা স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি, বৈধভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানো এবং অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইসিএমপিডি আন্তর্জাতিকভাবে এ বিষয়ে কাজ করছে এবং ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অরিঞ্জয় ধর বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে আইসিএমপিডি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিবাসন নীতি ও সুশাসন উন্নয়নে সরকার ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কাজ করে। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয়ে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, অভিবাসনে সুশাসন, শ্রম অভিবাসন, প্রত্যাবাসন ও পুনরেকত্রীকরণ, অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে সচেতনতা সৃষ্টি, অভিবাসন বিষয়ে তথ্যনির্ভর জনসচেতনতা গড়ে তোলা, প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করবে ব্র্যাক ও আইসিএমপিডি।
এ ছাড়া নীতিগত সংলাপ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন অংশীজনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করে তোলার উদ্যোগ নেবে দুই প্রতিষ্ঠান।






