ভারী বর্ষণে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন, আটকা পড়া যাত্রীরা কষ্টে

ভারী ও অতি ভারী বর্ষণে কক্সবাজারগামী একটি ট্রেন প্রায় আট ঘণ্টা চট্টগ্রামের ষোলশহরে আটকে থাকার পর চট্টগ্রামের অপর একটি স্টেশনের দিকে যাত্রা করেছে।
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী অপর একটি ট্রেন প্রবাল এক্সপ্রেসও জালালিহাটে আটকা পড়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম স্টেশন ও জালালিহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে রেললাইনের ওপর প্রায় দুই ফুট পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে ট্রেন দুটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
তারা আরও জানিয়েছে, অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড়তলী-ফৌজদারহাট সেকশনের আপ ও ডাউন লাইনে ২০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতি কমিয়ে ট্রেনগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
ষোলশহর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আরিফুল ইসলাম জানান, পর্যটক এক্সপ্রেসে প্রায় ৮০০ যাত্রী রয়েছেন।
“সকালে দুই ফুটের বেশি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল রেললাইন। এখনও প্রায় এক ফুট পানি রয়েছে,” আরিফুল ইসলাম রোকেয়া কালেকটিভকে বলেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় ট্রেনে আটকা পড়ায় বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
কথা হচ্ছিল ব্যাংক কর্মকর্তা রাহাতুন জাহান শ্রাবণীর সঙ্গে। তিনি সপরিবারে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
তিনি জানান, ৬ জুলাই রাতে নওগাঁ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে ভোরে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে সকালে কক্সবাজারগামী ট্রেনে ওঠেন।
রাহাতুন বলেন, “চট্টগ্রাম জংশন পার হওয়ার এক থেকে দেড় কিলোমিটার এগোতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ট্রেনটি প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ধরে আটকে থাকে।”
“ওই এলাকায় এখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এখনই পানি নামার কোনো আলামত নেই,” রাহাতুন রোকেয়া কালেকটিভকে বলেন।
তিনি জানান, তাদের দলে মোট ১৬ জন ছিলেন, যার মধ্যে সাতজন শিশু। দীর্ঘ সময় ট্রেনে আটকে থাকায় ওয়াশরুম ব্যবহার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বড়রা কোনো রকমে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শিশুদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, প্রথমে ট্রেনটি এমন একটি জায়গায় থেমেছিল, যেখানে নেমে হাঁটাহাঁটি করা বা খাবার সংগ্রহের কোনো সুযোগ ছিল না। জায়গাটি ছিল অনিরাপদও। রাত নয়টার একটু আগে ট্রেনটি পেছনে এসে চট্টগ্রাম স্টেশনের কাছে থেমেছে। কিন্তু এখনও সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, তারা ট্রেন থেকে নেমে বাসে করে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কপথে কক্সবাজারে যান চলাচল সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
ফিরে আসবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো ট্রেনটি কবে ঢাকায় ফিরতে পারবে, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।






