'নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা এখন সামাজিক-রাজনৈতিক সংকট'

নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা বর্তমান সময়ের অন্যতম সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় কবি সুফিয়া কামালের মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সমতার চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা নিরসনে সুফিয়া কামালের আলোয় পথচলা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সুফিয়া কামাল সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সুফিয়া কামাল সম্মাননা পাওয়া বরেণ্য চিত্রশিল্পী মু. আবুল হাশেম খান বলেন, সুফিয়া কামালের জনপ্রিয়তা ও মানুষের ভালোবাসার পেছনে ছিল তাঁর অসাধারণ মানবিকতা। তাঁর সাহস ও প্রেরণা মানুষকে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। নারী অধিকার, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে সেই শক্তি আজও প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল শিখিয়েছেন, অধিকার অর্জনের সংগ্রাম কখনো থেমে থাকে না। মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সুফিয়া কামালকে পৌঁছে দিতে হলে তাঁকে নিয়ে আরও গভীর গবেষণা ও পুনঃপাঠ প্রয়োজন। নারীর মর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার, সমতা ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান নতুনভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
তিনি বলেন, নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা শুধু নারীদের সমস্যা নয়, এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, রক্ষণশীল সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এক নারী কীভাবে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রভাগের নেতৃত্বে পৌঁছেছেন, সুফিয়া কামালের জীবন তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, সুফিয়া কামাল কেবল একজন সমাজ সংস্কারক নন, তিনি বাংলাদেশের নারীবাদী চিন্তার অন্যতম বৌদ্ধিক স্থপতি। ব্যক্তিগত বঞ্চনা ও শিক্ষার সংগ্রামকে তিনি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভেতর থেকেই সুফিয়া কামাল নারীর অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে এনেছেন। তাঁর জীবন নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়, নারীকে শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, চিন্তাশীল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম মানুষ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন জেলার কর্মী-সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।






