জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে নারীর নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: ইউএন উইমেন

বাংলাদেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে নারীর নেতৃত্বকে নীতি ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেন। সংস্থাটি বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সফল উদ্যোগগুলো জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে জলবায়ু অভিযোজন আরও কার্যকর হবে।
রোববার রাজধানীর আলোকিতে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের আয়োজনে ‘এমপাওয়ার ফেজ-২: ন্যাশনাল লেসনস লার্নড অ্যান্ড স্কেল-আপ ওয়ার্কশপ’-এ বক্তারা এ আহ্বান জানান।
সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও নিউজিল্যান্ড সরকারের সহায়তায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, তৃণমূলের নারী জলবায়ু নেতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেন এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল জলবায়ু উদ্যোগ কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, “শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস একসঙ্গে থাকলে নারীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন এবং সমাজে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নারীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।”
ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, এমপাওয়ার প্রকল্পের সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে বহু নারী টেকসই জীবিকা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, আত্মবিশ্বাস এবং জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা নারী ও কিশোরীদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে। আর সেই উদ্যোগ হতে হবে অর্থায়নসমৃদ্ধ, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, পরিমাপযোগ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত।”
ইউএন উইমেন জানায়, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়িত ‘এমপাওয়ার: উইমেন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ১০টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩ হাজার ২৮৪ জন নারী জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও প্রয়োজনীয় সেবার আওতায় এসেছেন। এর সুফল পৌঁছেছে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের কাছে। এছাড়া ৩০৮টি নারী পরিচালিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে সহায়তার জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থায়ন সংগ্রহ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যানকে ব্যয় নির্ধারিত ও পরিমাপযোগ্য খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দিতে সরকারকেও সহায়তা করেছে প্রকল্পটি।
কর্মশালায় কুড়িগ্রামের নারী অ্যাসোসিয়েট ফর রিভাইভাল অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভের প্রতিনিধি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “এখন আমরা আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারি। এমপাওয়ার আমাদের নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন ও জার্মানির দূতাবাসের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ড. নূরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, নারীর নেতৃত্বাধীন জলবায়ু উদ্যোগ সম্প্রসারণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে এমপাওয়ার বাংলাদেশের ওয়েবপেজ উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি উইমেন ইন ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ডব্লিউসিএএন)-এর সদস্যদের তোলা ছবি নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজনে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডে নারীর নেতৃত্ব নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।






