দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার এ রিট দায়ের করেন।

রিটে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার অধীনে দেনমোহর পরিশোধ ও আদায়ের বিষয়ে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে আইনে দেনমোহর পরিশোধের মৌলিক বিধান থাকলেও বিয়ের দীর্ঘ সময় পর সেই অর্থ কীভাবে মূল্যায়ন ও আদায় করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা নেই। এই অস্পষ্টতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা তাঁদের আইনগত আর্থিক অধিকার কার্যকরভাবে আদায় করতে পারেন না।

প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় বিয়ের এক বছর বা তার বেশি সময় পরে পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্য নির্ধারণ, আদায়ের পদ্ধতি এবং তা বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, এমন নীতিমালা প্রণয়ন হলে বিবাহিত নারীদের আর্থিক অধিকার আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হবে এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১০ ধারার অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত বাধ্যবাধকতা। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ত্রীর দেনমোহরের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বিয়ের সময় বা পরে, যেকোনো সময় স্বামীকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

তিনি বলেন, ডিভোর্স কেন হয়েছে বা কে তালাক দিয়েছেন, সেটি দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতাকে পরিবর্তন করে না। দেনমোহর আইনে স্বীকৃত স্ত্রীর একটি বৈবাহিক অধিকার।

ফাহমিদা আখতার বলেন, সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে স্ত্রী তালাক দিলে, সংসার ছেড়ে চলে গেলে বা সংসার করতে অনিচ্ছুক হলে স্বামী দেনমোহর দিতে বাধ্য নন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এমন কোনো বিধান নেই। ডিভোর্সের কারণ বা উদ্যোগ যিনিই নিন না কেন, দেনমোহর পরিশোধের দায়িত্ব থেকে স্বামী অব্যাহতি পান না।