নারীর জীবন, স্বপ্ন-সম্ভাবনা, জয়-পরাজয় নিয়ে তৈরি এই সিরিজগুলো দেখেছেন?

বাইরে থেকে ঝলমলে-ঝাঁ চকচকে জীবনের ভেতরটা হয়তো ছাই হয়ে আছে। কেউ হয়তো নিজেই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। আবার কেউ নির্যাতনের শিকার হয়, বিশ্বাস করাতে পারে না কাউকে। আর একলা তরুণী মা? তার সংগ্রামের শুরু আছে, শেষটা কোথায় গিয়ে ঠেকে? চোখ মেলে তাকালে এমন অজস্র উদাহরণ দেখবেন।নানা সমাজে নারীর জীবন কেমন হতে পারে - এমন কিছু জনপ্রিয় সিরিজের খোঁজ থাকল আজ।
১. দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল
চরম পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কেমন হতে পারে তার এক উদাহরণ 'দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল'। এই পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার গৃহকর্মী জুন থেকে শুরু করে বাড়ির কর্ত্রী সেরেনা অব্দি। উভয়েই গিলিয়েড নামক দমনমূলক এক সমাজের শিকার। যেখানে কোনো কিছুতেই নারীর কোনো মত থাকতে নেই। এক পর্যায়ে হারিয়ে যাওয়া স্বামী এবং কন্যাকে খুঁজে পেতে বিপ্লবী গোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচয় হয় জুনের। জুন ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু সেরেনা কি করল? সে কি মুক্তি পেল না নিজেই আটকে পড়ল দাসত্বের চক্রে?
মার্গারেট অ্যাটউডের দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজটি ৯ বছর আগে প্রচার শুরু হয়। এর ৬ টি সিজন, দেখা যাবে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হুলুতে।
২. মেইড
বয়স ২০ পেরোতেই এক সন্তানের মা হয়ে যান অ্যালেক্স। প্রেমিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অ্যালেক্স একসময় নিজের সন্তান নিয়ে নতুন জীবন গড়তে বের হয়ে যান। সন্তান বড় করা আর খাবারের টাকা জোগাড়ে অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। এক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখে। জীবন যেখানে ফুরিয়ে যায় বলে মনে হয় সেখান থেকে আবারও শুরু হতে পারে, শুরু হয়ও। এই সমাজের এমন অসংখ্য অ্যালেক্স এই সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত হবেন। সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত 'মেইড' সিরিজটি দেখা যাবে নেটফ্লিক্সে।
৩. আনবিলিভেবল
নিজের শোবার ঘরে ছুরির মুখে ম্যারি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। কেউ বিশ্বাস করতে চাননি। কেউ না। কাছের লোকজন তো নয়ই এমনকি পুলিশও না। সে মিথ্যা বলছে এমন অপবাদও দেওয়া হয়। ধর্ষণের ট্রমার সঙ্গে যুক্ত হয় অবিশ্বাসের ট্রমা। তবে ম্যারির কথা বিশ্বাস করেন দুজন নারী গোয়েন্দা পুলিশ এবং তাঁরা অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন। ম্যারি ন্যায়বিচার পান। নেটফ্লিক্সের এই সিরিজটি এক সিজনের। এটিও সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।
৪. আনঅর্থোডক্স
ব্রুকলিনে বেড়ে ওঠা এস্থারের বিয়ে হয়েছিল পারিবারিকভাবেই। ইহুদি সমাজের কঠোর রীতিনীতিতে বেড়ে ওঠা এস্থারকে বিয়ের পর তাকে চুল ছেঁটে ফেলতে হয়। এস্থার বেশ গান গায়, কিন্তু তার নিজের সমাজ জনসম্মুখে নারীর গান গাওয়া মেনে নিতে পারে না। এই সমাজ থেকে এস্থার পালিয়ে জার্মানি চলে যায়।
যেখানে সে নতুন জীবন শুরুর চেষ্টা করে। খুঁজে পায় আত্মপরিচয়। একজন নারী কঠোর সামাজিক ও ধর্মীয় বাধার মধ্যে থেকে নিজের স্বপ্ন ও স্বাধীনতার লড়াই কীভাবে চালিয়ে যায় তাই এই সিরিজের উপজীব্য। নেটফ্লিক্সে প্রচারিত মার্কিন লেখিকা ডেবোরা ফেল্ডম্যানের নিজ জীবনের অভিজ্ঞতাই এই আনঅর্থোডক্স।
৫. বিগ লিটল লাইস
ম্যাডেলিন, সেলেস্তে ও জেন—তিন নারীর জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে সাইকোলজিকাল ডার্ক কমেডি ড্রামা বিগ লিটল লাইস। বাইরে থেকে এই নারীদের জীবন সুন্দর ও স্বাভাবিক, কিন্তু ভেতরের জগৎ আলাদা। সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক সহিংসতা এবং বন্ধুত্বের আড়ালে ছোট-বড় মিথ্যার ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাবে এতে। উল্টোদিকে এই নারীরাই যখন একসঙ্গে দাঁড়ান, তখন মোকাবিলা করতে পারেন যেকোনো পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত এইচবিও ম্যাক্সের এই সিরিজটির দুটি সিজন প্রচারিত হয়েছে।





