হান্টাভাইরাস কী? আমাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা?

কাজী তাসনিম ছাবেরী
হান্টাভাইরাস কী? আমাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা?
ছবি: প্রতীকী

আর্জেন্টিনা থেকে এক মাস আগে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরি এমভি হন্ডিয়াসে (MV Hondius) হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও চারজনকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশও খুব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক এই রোগ এবং এতে আমাদের ঝুঁকি আছে কি না সে সম্পর্কে।

হান্টাভাইরাস কী?

সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে হান্টাভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর মূত্র, লালা বা বিষ্ঠা থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

হান্টাভাইরাস কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কর্মকর্তা ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, “এটি কোনো নতুন মহামারির শুরু নয়। এটি কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয়, ছড়ানোর ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

যদিও মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ‘অ্যান্ডিজ’ স্ট্রেইনের হান্টাভাইরাস খুব সহজে সংক্রমণ ঘটায় না। আর এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী এই স্ট্রেইনটিই।

প্রমোদতরিতে সংক্রমণের কারণ কী?

ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি দুর্গম বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত এলাকায় ভ্রমণ করছিল। ফলে কোনো যাত্রী সেখানে বা জাহাজে ওঠার আগেই ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আগের কয়েকটি প্রাদুর্ভাবে দেখেছেন, অ্যান্ডিজ স্ট্রেইন খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।

তাঁদের ধারণা, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজেও কিছু সংক্রমণ এভাবেই ছড়িয়েছে। ক্রুজ জাহাজে কেবিন, খাবারের জায়গা ও যেখানে বহু মানুষ একসঙ্গে সময় কাটান, এমন স্থানগুলো খুব বিস্তৃত নয়। ফলে দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

রাস্তাঘাট, দোকানপাট, কর্মক্ষেত্র বা স্কুল থেকে কি ছড়ায়?

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (UKHSA) বলছে, বাইরে স্বাভাবিক সামাজিক মেলামেশা—যেমন রাস্তাঘাট, দোকান, কর্মক্ষেত্র বা স্কুলে যাওয়া-আসা করলে এই ভাইরাস ছড়ায় না।

সংক্রমণের লক্ষণগুলো কী কী?

ভাইরাসে সংক্রমণের লক্ষণ সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে এক মাস পরও উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বমিভাব, বমি ও ডায়রিয়া।

চিকিৎসা কী?

রোগ শনাক্তের পরীক্ষা থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রমোদতরির যাত্রীদের কী অবস্থা?

ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ফিরে যাওয়া যাত্রীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের সংক্রমণ নিশ্চিত এবং তিনজন সন্দেহভাজন।

এই মুহূর্তে সংক্রমণের ঝুঁকি কতটা?

আগেই বলেছি, হান্টাভাইরাস কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো কোনো রোগ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো খুবই কম।

সূত্র: বিবিসি