দেশে অর্ধেক শিশুর মৌলিক সাক্ষরতা নেই, প্রতি তিনজনে একজন সংখ্যাজ্ঞানেও পিছিয়ে

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
দেশে অর্ধেক শিশুর মৌলিক সাক্ষরতা নেই, প্রতি 
তিনজনে একজন সংখ্যাজ্ঞানেও পিছিয়ে
ছবি: এআই/রোকেয়া কালেকটিভ গ্রাফিক্স

বাংলাদেশে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার ও ছেলে-মেয়ের সমতায় অগ্রগতি হলেও শেখার সংকট এখনও গভীর। দেশের প্রায় অর্ধেক শিশু মৌলিক সাক্ষরতা অর্জন করতে পারে না, আর প্রতি তিনজনের একজন মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে নিম্ন-আয়ের পরিবার, প্রত্যন্ত অঞ্চল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী শিশুরা এখনও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে।

শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ (ইএসএ)–২০২৬-এর খসড়া প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব তথ্য নিয়ে শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে একটি যাচাইকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকার, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনিসেফ এবং উন্নয়ন সহযোগীরা যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।

কর্মশালায় জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

ইএসএ–২০২৬ বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের একটি বিস্তৃত ও প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন, যেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিক্ষক উন্নয়ন, প্রশাসন, অর্থায়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়লেও সব স্তরে ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারছে না। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কম থাকায় এবং পরিবারের নিজস্ব ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য আরও তীব্র হচ্ছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়,জলবায়ু পরিবর্তন, জনমিতিক পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের নতুন চাহিদা শিক্ষা খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব মোকাবিলায় সুশাসন, সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

আয়োজকদের মতে, এই যাচাইকরণ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ–২০২৬ প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে অংশীজনদের মধ্যে একটি যৌথ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কার, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।