সংরক্ষিত নারী আসনে বেশিরভাগ প্রার্থীর সম্পদ স্বামীর চেয়ে বেশি

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
সংরক্ষিত নারী আসনে বেশিরভাগ প্রার্থীর সম্পদ স্বামীর চেয়ে বেশি
গ্রাফিক্স: রোকেয়া কালেকটিভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের অধিকাংশের সম্পদের পরিমাণই তাঁদের স্বামীদের তুলনায় বেশি। রয়েছে সম্পদের প্রভাব ও নির্দিষ্ট কিছু পেশার আধিপত্য।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৪৯ জন মনোনীত প্রার্থীর হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বামীর তুলনায় সম্পদশালী হওয়া প্রসঙ্গে টিআইবি বলেছে, বাংলাদেশের জনমিতি ও সম্পদ অর্জনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এতে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

“সংরক্ষিত নারী আসনে উচ্চশিক্ষিত এবং আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণ ইতিবাচক হলেও সাধারণ আসনের মতো এখানেও সম্পদের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশার আধিপত্য লক্ষ্যণীয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে,” এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে টিআইবি।

দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটি আরও জানায়, মনোনীতদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই উচ্চশিক্ষিত ও কোটিপতি।

বিত্তবান ও কোটিপতি প্রার্থীদের চিত্র: বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের বড় অংশই সম্পদশালী। মোট ৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই (৬৫.৩১%) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্যমান অনুযায়ী কোটিপতি।

এদের মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে কোটিপতি ২৫ জন এবং স্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে কোটিপতি ১৪ জন।

দলীয়ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন (৭২.২২%) এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন (৫৬%) কোটিপতি।

এ ছাড়া জাগপার একমাত্র প্রার্থীও কোটিপতি।

আর গড় বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি—এমন প্রার্থীর হার ৩৮.৭৮ শতাংশ (১৯ জন)।

সরাসরি ভোটে সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে এই হার ৬৭.৯ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ কোটিপতি।

তবে সার্বিকভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনসহ সব সদস্যের মধ্যে মোট কোটিপতির সংখ্যা ২৬৯ জন, যা শতকরা হিসেবে ৭৭.৩ শতাংশ।

সম্পদ ও ঋণ

সংরক্ষিত আসনের কোটিপতি প্রার্থীদের মোট সম্পদের পরিমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁদের কোটি টাকার বেশি স্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৬৬ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৭৮ কোটি টাকা। তবে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আলাদাভাবে যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫২ কোটি টাকা।

লক্ষণীয় যে, নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে নিজ নামে কিংবা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ১০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার আছে—এমন অন্তত তিনজন প্রার্থী রয়েছেন; যাঁদের একজনের নিজের নামেই ৫০২ ভরি স্বর্ণালংকারের তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জনের স্বামীর তুলনায় নিজের দালান বা ফ্ল্যাটের সংখ্যা কম।

একইভাবে জমির পরিমাণ কম আছে ৭ জনের এবং ১৪ জনের অস্থাবর সম্পদ তাঁদের স্বামীর তুলনায় কম।

ব্যক্তিগত বিপুল এই সম্পদের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের ঋণগ্রস্ততার চিত্রও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০.৪১ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত।

দলীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্ততার হার সমান—২২.২২ শতাংশ। তবে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের (২০.৪১%) তুলনায় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (৫০.৮৪%) ঋণগ্রস্ততার হার ২.৪৯ গুণ বেশি।