রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ডলার কে? বিচার এড়াতেই কি ‘ডলার গল্প’?

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ডলার কে? বিচার এড়াতেই কি ‘ডলার গল্প’?
rapist

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শুরুর প্রথম দিনেই আসামি সোহেল রানা দাবি করেছেন, শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তি।

প্রশ্ন উঠছে, ডলার কে? সোহেল রানা বলেছেন, ডলার মিরপুর ১১ নম্বরে থাকেন এবং তাঁকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন।

কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, মামলার এজাহারে তৃতীয় একজন অজ্ঞাতনামা আসামির উল্লেখ আছে। কিন্তু পুলিশ যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, তাতে এই তৃতীয় ব্যক্তির নাম বা তিনি কীভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

এমনকি মামলায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লাও উল্লেখ করেছেন, রামিসা হত্যায় অভিযোগপত্রভুক্ত দুই নম্বর আসামি এবং সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না বেগম বলেছেন, তৃতীয় ব্যক্তির নাম না জানলেও তিনি তাঁকে দেখলে চিনতে পারবেন। স্বপ্না বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আগেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

পুলিশ এই তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে কেন অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান রোকেয়া কালেকটিভকে বলেন, দায় এড়াতেই আসামি এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। তদন্তের শুরু থেকেই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করে আসছেন।

“তবে স্বামী-স্ত্রীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়,” বলেন অহিদুজ্জামান।

এই মামলায় স্বপ্না আক্তার কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

পুলিশের দাবি, সন্তান হারিয়ে শোকাতুর বাবা তখন তৃতীয় ব্যক্তির কথা বলেছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ডলারের প্রসঙ্গ মামলায় কী প্রভাব ফেলতে পারে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজিয়া কবির রোকেয়া কালেকটিভকে বলেন, “অজ্ঞাতনামা হিসেবে তৃতীয় ব্যক্তির উল্লেখ ছিল, কিন্তু তিনি ডলার কি না বা তাঁর পরিচয় কী, তা উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।”

তিনি বলেন, “এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দূরতম সম্পর্ক আছে, এমন কাউকেও বিচারের আওতায় আনা জরুরি।”

এ জন্য সব সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত এবং জোরালো জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

ডিএনএ নমুনা নিয়ে বিতর্ক

বিচারের প্রথম দিন সোহেল রানা ডিএনএ প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব (Exhibit-1)-এ বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রামিসা আক্তারের (৮) জামাকাপড়সহ শরীরের রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছিল। ভেজা আলামত থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা যায়নি।

তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক নাশাত জাবীন নিশ্চিত করেছেন, আঘাতের ধরন থেকে স্পষ্ট যে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। মাথা কেটে ফেলার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রামিসার মৃত্যু হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তে রামিসার শরীরে যে আঘাতের বর্ণনা রয়েছে, তা এতটাই নৃশংস যে তা প্রকাশ করা সম্ভব হলো না।