শুধু বিচার নয়, সহিংসতার শিকার নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও জরুরি

নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় শুধু বিচার নিশ্চিত করলেই হবে না, ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসক ও নারী অধিকারকর্মীরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
তারা বলেন, সহিংসতার শিকার নারী ও কন্যাশিশুরা দীর্ঘদিন মানসিক আঘাত বহন করেন। কিন্তু দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ফলে অনেক ভুক্তভোগী সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না।
বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসক ডা. শারমিন আফরিন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্যকে এখনো যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ সহিংসতার কারণে যে মানসিক ক্ষত তৈরি হয়, তা সহজে দূর হয় না। বিভিন্ন ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে নারী ও কন্যাশিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবন, কর্মক্ষমতা ও বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়া দেশের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাই মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রতিকার ও পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু ভুক্তভোগী নয়, সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সেবাদানকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়েও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের ইতিবাচক প্যারেন্টিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সেবাদানকারীদের নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেন তিনি।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী নির্যাতনের বিভৎস ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করা সেবাদানকারীরাও মানসিক চাপে থাকেন। তাই তাঁদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। একই সঙ্গে সহিংসতার সামাজিক ভিত্তি ভেঙে দিতে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং কর্মকর্তাসহ প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।





