সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার নারী সাংবাদিক

রাজধানীর পল্লবীর আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজনীতি ডটকমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শিউলি বাহার। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও বর্তমানে কোনো গণমাধ্যমে কর্মরত নন বলে জানা গেছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করতে গিয়ে এ ঘটনার মুখোমুখি হন শিউলি।
শিউলি বাহার জানান, আদালত চত্বরে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনিও রামিসার বাবার বক্তব্য ধারণের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে বারবার সরে যেতে বলেন। তিনি না সরলে ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধাক্কা দেন এবং তার হাতে থাকা বুম ও স্ট্যান্ডেও আঘাত করেন।
তিনি বলেন, “ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও একজন ব্যক্তি আমাকে লক্ষ্য করে বারবার ধাক্কা দিয়েছেন। একপর্যায়ে আমার হাতে থাকা স্ট্যান্ডে জোরে আঘাত করলে সেটিতে লাগানো মোবাইল ফোন নিচে পড়ে যায়। পরে অন্য এক সাংবাদিক সেটি উদ্ধার করে আমাকে ফেরত দেন।”
শিউলি আরও বলেন, “ঘটনাটি আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করেছে। একজন সাংবাদিক হয়ে আরেকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হলো, তা বুঝতে পারছি না।”
এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আদালত প্রাঙ্গণে এক ব্যক্তি শিউলি বাহারকে ধাক্কা দিয়ে রামিসার বাবার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় তার বুমে আঘাত করলে মোবাইল ফোনটি নিচে পড়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জুবায়ের আলম। তিনি একসময় সোনালী নিউজে কর্মরত ছিলেন। তবে সোনালী নিউজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুবায়ের আলম বলেন, “অ্যাসাইনমেন্টে গেলে কিছু ধাক্কাধাক্কি হয়। উনাকে অন্যদের জায়গা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি না শোনায় একটু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটিকে বড় কোনো ঘটনা মনে করার কারণ নেই।”
তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে তিনি সোনালী নিউজ বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে কর্মরত নন। তবে কেন তিনি ওই অ্যাসাইনমেন্টে উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনীতি ডটকমের বার্তা সম্পাদক তরিকুর রহমান সজীব বলেন, “আমাদের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টারের সঙ্গে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে একজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন এলিস বলেন, “কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। তবে এ ঘটনায় উদ্বেগের বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো গণমাধ্যমে কর্মরত না হয়েও সাংবাদিক পরিচয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যারা মোজো বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন, তাদের একটি অংশ পেশাগত শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতন নন। নারী সংবাদকর্মীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নারী সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সহকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।





