নারী করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রস্তাব

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
নারী করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে 
৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রস্তাব
ছবি: রোকেয়া কালেকটিভ গ্রাফিক্স

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় নারী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী বাজেটে। একই সঙ্গে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় নতুন সরকারের হয়ে প্রথম এবং দেশের ৫৫তম বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার আগামী ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য যে প্রগতিশীল কর কাঠামোর রূপরেখা দিয়েছে, সেখানে নারী করদাতাদের জন্য ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে বাড়বে করমুক্ত আয়সীমা

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে নারী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এরপর ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে তা বেড়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নারী ও সিনিয়র সিটিজেনরা সাধারণ করদাতাদের তুলনায় ৫০ হাজার টাকা বেশি করমুক্ত আয়ের সুবিধা পাবেন।

বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা

প্রস্তাবে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ২০২৬-২৭ করবর্ষে তা ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৬ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাঁচ বছরের কর কাঠামোর রূপরেখা

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, করদাতাদের ভবিষ্যৎ কর পরিকল্পনা সহজ করতে মধ্যমেয়াদি পূর্বানুমানযোগ্য একটি কর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতি কর্মজীবী নারী ও উদ্যোক্তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় সহায়ক হবে এবং সঞ্চয়ের সুযোগ বাড়াতে পারে।