ভাইরাল সেই ছবির গল্প: কেন শিশু লামিনে ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন মেসি?

এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। এই দুই দলের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়েছে একটি পুরোনো ছবি।
সেখানে দেখা যায়, তরুণ লিওনেল মেসির কোলে একটি ছোট্ট শিশু। সেই শিশুই আজ স্পেনের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল।
কিন্তু জানেন কি, কেন তোলা হয়েছিল সেই ছবিটি?
এটি কোনো পারিবারিক মুহূর্তের ছবি নয়। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি তহবিল সংগ্রহমূলক ক্যালেন্ডারের জন্য বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে ফটোশুটের সময় ছবিটি তোলা হয়েছিল।
তখন লামিনে ইয়ামাল ছিলেন মাত্র কয়েক মাসের শিশু। তার মা শেইলা এবানা গিনিও সেই ফটোশুটে উপস্থিত ছিলেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সে সময় ২০ বছর বয়সী মেসি বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা। ফটোশুটের অংশ হিসেবে তিনি শিশুটিকে গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন এবং কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন।
আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত তখন কল্পনাও করেননি, দেড় যুগের কিছু বেশি সময় পর সেই শিশুই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভাদের একজন হয়ে উঠবেন।
সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেছে। মেসি এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আর লামিনে ইয়ামাল অল্প বয়সেই নিজের অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বজুড়ে আলোচনায়।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ইতিহাস গড়েন ইয়ামাল। ১৬ বছর ৩৬২ দিন বয়সে গোল করে তিনি ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন।
চলতি বিশ্বকাপ চলাকালে, ১৩ জুলাই তিনি ১৯ বছরে পা দিয়েছেন। এরই মধ্যে তাকে বিশ্বের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের রানার-আপও হন।
তবে মাঠের বাইরেও মেসি ও লামিনে ইয়ামালের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, দুজনই সংস্থাটির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বিশ্বের শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও কল্যাণে কাজ করছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালকে সামনে রেখে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করে এর পেছনের গল্প আবারও তুলে ধরেছে ইউনিসেফ।
সংস্থাটি বলছে, তাদের লক্ষ্য একটাই, প্রতিটি শিশু যেন বেঁচে থাকে, সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে এবং নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়।






