‘দ্য বিউটিফুল গেম’-এর অন্ধকার দিক: বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের আড়ালে কি পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ে?

বিশ্বকাপ বা বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের সময় পুলিশ ও স্বাস্থ্যসেবায় ঘরোয়া সহিংসতা সংক্রান্ত ফোনকল বাড়ে বলে একাধিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নারী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। আয়োজক তিন দেশে তারা সচেতনতা বাড়ানো এবং সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়েছে।
তাদের মতে, বড় ক্রীড়া আসরের সময় অ্যালকোহল গ্রহণ, ভিড় এবং অতিরিক্ত আবেগ অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কানাডায় নারী আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা উইমেন্স শেল্টারস কানাডার নির্বাহী পরিচালক অনুরাধা দুগল বলেন, “কানাডা, মেক্সিকো বা যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ দেখতে আসা কেউ যদি সহিংসতার শিকার হন বা কাউকে আক্রান্ত হতে দেখেন, তারা স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা আপনাদের বিশ্বাস করি, আপনারা একা নন।”
তবে নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের আলোচনা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
জাতিসংঘ নারী সংস্থা (UN Women) বলছে, “ফুটবল এই সহিংসতা তৈরি করে না, এটি শুধু ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।”
তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ম্যাচের ফল ঘিরে আবেগ, হতাশা বা উচ্ছ্বাস এবং অ্যালকোহল একসঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে আগে থেকেই থাকা পারিবারিক সহিংসতা আরও বেড়ে যায়।
২০১৮ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, ইংল্যান্ডের ম্যাচের দিনে অ্যালকোহল-সম্পর্কিত ঘরোয়া সহিংসতার ঘটনা ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (LSE)-এর গবেষকরা আরও জানান, ম্যাচ চলাকালে সহিংসতার ঘটনা বাড়তে শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, পরে ধীরে ধীরে কমে আসে।
অন্যদিকে ব্রাজিলে ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, জাতীয় ফুটবল লিগ চলাকালে পাঁচটি বড় শহরে নারীর প্রতি সহিংসতার পুলিশ রিপোর্ট ২০.৮ শতাংশ এবং হুমকির ঘটনা ২৩.৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
সূত্র: বিবিসি নিউজ
জার্মানির নারী উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর অন্তরালের গল্প






