“সবাই তারস্বরে চিৎকার করছে নারী শিক্ষা, নারী শিক্ষা”: সংসদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
“সবাই তারস্বরে চিৎকার করছে নারী শিক্ষা, নারী শিক্ষা”: সংসদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সংসদীয় বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা।

তিনি বলেছেন, নারী শিক্ষার বিরোধিতা নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ছেলে শিশুদের শিক্ষাবঞ্চনার বাস্তবতা তুলে ধরতেই তিনি ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, গত ১৬ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

তার দাবি, দরিদ্র পরিবারে মেয়েরা কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার সুযোগ পেলেও অনেক ছেলে শিশু অল্প বয়সেই জীবিকার তাগিদে শ্রমবাজারে চলে যায়।

নুরুন্নিসা বলেন, তিনি গত ২০ বছর ধরে নারীদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। প্রথমে মায়েদের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরে শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে পারে না। অনেক ছেলে শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজে পাঠানো হয়, আর মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্য বলেন, তার স্কুলে আসা অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মায়েরা কিছুটা শিক্ষিত হলেও বাবারা অশিক্ষিত। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পুরুষ শিক্ষিত না হলে সেই নারীকে মূল্যায়ন করবে কে?”

এর আগে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নুরুন্নিসা সিদ্দীকা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ছেলে ও মেয়ের অধিকার সমান হলে ছেলেদের শিক্ষাও কেন অবৈতনিক করা হবে না। ওই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “সবাই তারস্বরে চিৎকার করছে নারী শিক্ষা, নারী শিক্ষা।”

নতুন ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, একই পরিবারের মেয়েরা অবৈতনিক শিক্ষার সুবিধা পেলেও অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে না পেরে কাজে পাঠানো হয়। তাই দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব ছেলে-মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু এবং মেয়েদের মতো ছেলেদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

পোস্টের শেষে নুরুন্নিসা সিদ্দীকা তার দাবির পক্ষে সমর্থনও কামনা করেন।