নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে তাত্ত্বিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ মহিলা পরিষদের

রোকেয়া কালেকটিভ প্রতিবেদক
নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে তাত্ত্বিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ মহিলা পরিষদের
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে ঢাকার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম–মুনিরা খান মিলনায়তনে “জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন” বিষয়ক অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সের ১৬তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

নারী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে তাত্ত্বিক চর্চা ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা। তাঁদের মতে, নারী মুক্তি, জেন্ডার সমতা ও মানবমুক্তির প্রশ্নকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে বৈষম্যের কাঠামো বিশ্লেষণ জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে ঢাকার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম–মুনিরা খান মিলনায়তনে “জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন” বিষয়ক অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সের ১৬তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এবং কোর্স কারিকুলাম উপস্থাপন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোর্স পরিচালক সীমা মোসলেম।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলন শুধু কর্মসূচিভিত্তিক নয়, এর রয়েছে শক্তিশালী দার্শনিক ভিত্তি। নারী মুক্তি ও জেন্ডার সমতার প্রশ্নকে বোঝার জন্য তাত্ত্বিক চর্চা ও বিশ্লেষণ অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জেন্ডার এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক শ্রমের স্বীকৃতি, লিঙ্গ বৈচিত্র্য এবং পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর প্রভাব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

সিমোন দ্য বোভোয়ারের বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মানুষ নারী হয়ে জন্মায় না, সমাজ তাকে নারী করে তোলে।”

স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, নারী কোনো জন্মগত বৈষম্যের শিকার নয়; সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই কাঠামো চিহ্নিত করাই নারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দেশজুড়ে জেন্ডার ও উন্নয়ন বিষয়ে এই সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করছে। শিক্ষক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে এটি ধারাবাহিকভাবে সফলভাবে চলছে।

কোর্স পরিচালক সীমা মোসলেম বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে শুধু নারী আন্দোলনের কর্মীদের নয়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই কোর্সটি সাজানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ২৫ জন শিক্ষার্থী, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ও অংশীজনসহ প্রায় ৬০ জন অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপপরিষদের সম্পাদক রীনা আহমেদ।