ফোন নম্বর গোপন রেখেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করা যাবে, আসছে ইউজারনেম সুবিধা

রোকেয়া কালেকটিভ ডেস্ক
ফোন নম্বর গোপন রেখেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করা যাবে, আসছে ইউজারনেম সুবিধা
ছবি: Vectorstock

হোয়াটসঅ্যাপে আর ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যের সঙ্গে চ্যাট করা যাবে। এর জন্য চালু হচ্ছে ইউনিক ইউজারনেম ব্যবস্থাপনা। ধাপে ধাপে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্য এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের একটি ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে যেকোনো সময় ইউজারনেম পরিবর্তন বা মুছেও ফেলা যাবে।

ফিচারটি পুরোপুরি চালু হলে ব্যবহারকারীরা শুধু ইউজারনেম বিনিময় করেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশের প্রয়োজন হবে না। তবে অবাঞ্ছিত বার্তার ক্ষেত্রে আগের মতোই ব্লক ও রিপোর্ট করার সুবিধা থাকবে।

ইউজারনেম সর্বোচ্চ ৩৫ অক্ষরের হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি বিধিনিষেধ থাকছে না। তবে কিছু উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও পরিচিত তারকার নাম অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকবে না।

মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ এই ফিচারকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষার একটি উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।

হোয়াটসঅ্যাপের প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তারা জেনেছেন, বিশেষ করে গ্রুপ চ্যাটে অনেকেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করতে চান না।

তিনি বলেন, এই ফিচার ব্যবহারকারীদের অ্যাপে নিজেদের কীভাবে উপস্থাপন করবেন, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।

নিরাপদ বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ সিগন্যাল ২০২৪ সালেই একই ধরনের একটি সুবিধা চালু করেছিল।

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং Privacy is Power বইয়ের লেখক ক্যারিসা ভেলিজের মতে, এটি ভালো একটি ফিচার হলেও হোয়াটসঅ্যাপকে সামগ্রিকভাবে গোপনীয়তাবান্ধব অ্যাপ বলা যায় না।

তিনি বলেন, “এটি ভালো একটি ফিচার। কিন্তু কিছুটা বেশি গোপনীয়তা দিলেও মনে রাখতে হবে, হোয়াটসঅ্যাপ সামগ্রিকভাবে প্রাইভেসিবান্ধব অ্যাপ নয়। বিপণনের উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ মেটাডেটা সংগ্রহ করে। আমাদের মনে রাখতে হবে, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক মেটা, যার গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম খারাপ রেকর্ড রয়েছে।”

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যক্তিগত চ্যাটের বিষয়বস্তু বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করে না। কারণ এসব বার্তা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। ফলে কোম্পানিও বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে না।

তবে বিজ্ঞাপন–সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর মেটাডেটা, যেমন কার সঙ্গে কখন যোগাযোগ করা হচ্ছে, সে ধরনের তথ্য ব্যবহার করে।

নতুন সুবিধাটি পুরোপুরি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর অন্যদের কাছে আর দৃশ্যমান থাকবে না।

তবে কোনো পাবলিক ইউজারনেম ডিরেক্টরি থাকবে না। আর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য শুরুতেই ফোন নম্বরের প্রয়োজন আগের মতোই থাকবে।

বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৩ বছর। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে আগামী বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে, তার আওতায় মেসেজিং অ্যাপগুলো থাকবে না।

সূত্র: বিবিসি