যুক্তরাজ্যে শিশু ধর্ষণের দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট সাসেক্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকে ফাঁদ পেতে (গ্রুমিং) দুই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে তারেক মিয়া (২০) নামের এক তরুণকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।
গত বুধবার পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টের বিচারক মাইকেল বোয়েস কেসি এই রায় ঘোষণা করেন। রায় দেওয়ার সময় বিচারক বলেন, ওই তরুণ জনসাধারণের জন্য "অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ" একজন ব্যক্তি। সে আবারও একই ধরনের অপরাধ ঘটাতে পারে বলে প্রাক-দণ্ড প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারেক মিয়া আগে ওয়েস্ট সাসেক্সের ওর্থিংয়ের সালভিংটন এলাকায় থাকতেন। মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যান।
আদালতের শুনানিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর মেয়েদের ফাঁদে ফেলে নির্যাতন চালাতেন তারেক। তার প্রথম শিকার ছিল ১২ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশু। আর দ্বিতীয় শিশুটির বয়স যখন মাত্র নয় বছর, তখন থেকেই তাকে ফুসলানো শুরু করেন তিনি। তখন তারেকের বয়স ছিল ১৮ বছর। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব অপরাধের ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তারেক যখন ১৭ বছর বয়সে প্রথম ভুক্তভোগী শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে তাকে গাড়িতে করে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে নিজের গাড়ি ও শোবার ঘরেও এই নির্যাতন চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সে এখনো সেই ভয়ানক স্মৃতির আকস্মিক তাড়নায় (ফ্ল্যাশব্যাক) বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, নিজের বিছানায় ঘুমাতে পারে না এবং সবসময় "উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত" থাকে।
তারেক যখন তার দ্বিতীয় শিকারকে ফুসলানো শুরু করেন, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর এবং শিশুটির বয়স ছিল মাত্র নয় বছর।
শিশুটির মা এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনার পর থেকে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। সে "অনবরত মনে করছে অপরাধটা যেন তারই ছিল, অথচ আদতে সে সম্পূর্ণ নির্দোষ।"
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক তার এই অপরাধকে স্রেফ ‘দুষ্টুমি’, ‘কৌতূহলবশত ভুল’ ও ‘বয়সের দোষ’ বলে হালকা করার চেষ্টা করেন। তবে আদালতে তিনি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণ, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং শিশুর আপত্তিকর ছবি তৈরিসহ মোট ১০টি অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
শুনানিতে সরকারি আইনজীবী স্টিভেন মলয় বলেন, মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে আসার পরও তারেকের মধ্যে স্থানীয় নৈতিক মূল্যবোধ বা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে ওঠেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেয়েদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তারেক "অত্যন্ত উচ্চ এবং আসন্ন" এক বড় হুমকি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেখান, তারেক তার কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সাজা দেওয়ার ক্ষেত্তারেকের কম বয়স, পরিপক্বতার অভাব এবং এর আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।
১৫ বছরের মূল কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তারেককে আরও তিন বছর বর্ধিত নজরদারিতে (লাইসেন্স) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘নিবন্ধিত যৌন অপরাধী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং শিশুদের সংস্পর্শ বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সাসেক্স পুলিশের ডিটেকটিভ কনস্টেবল পিটার পার্কিনসন বলেন, তারেক একজন বিপজ্জনক অপরাধী। নির্যাতিত শিশুরা যেভাবে আদালতে দাঁড়িয়ে এই অপরাধীর বিরুদ্ধে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।








